দুই দফা মিলিয়ে ৯২.৪৭% ভোট! স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির! পুরুষদের টপকালো মহিলারা
গণতন্ত্রের মহোৎসবে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলা। এককথায় রক্তপাতহীন, নজিরবিহীন ভোট। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভোটদানের হার পৌঁছেছে এক অনন্য উচ্চতায়। দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ শেষে অংশগ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে ৯১.৬৬ শতাংশ। প্রথম দফার ৯৩.১৯ শতাংশ ভোটদানের সঙ্গে মিলিয়ে মোট ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ, যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে কমিশন।
এর আগে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৭২ শতাংশ। সেই তুলনায় এবারের ভোটে অংশগ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিপুল উপস্থিতি শুধু নির্বাচনী উত্তেজনাই নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আস্থা ও সচেতনতার পরিচয়। দ্বিতীয় দফার ভোটে লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ পুরুষদের তুলনায় বেশি, মহিলাদের ভোটদানের হার ৯২.২৮ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৯১.০৭ শতাংশ। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের অংশগ্রহণও ৯১ শতাংশের বেশি।
নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে নির্বাচন কমিশন একাধিক আধুনিক ও ভোটার-বান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশ লাইভ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা ছিল, যাতে স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি ইভিএমে প্রার্থীদের রঙিন ছবি সংযোজন, মোবাইল জমা রাখার সুবিধা (এমডিএফ), সহজপাঠ্য ভোটার স্লিপ এবং প্রতি বুথে ভোটারের সংখ্যা সীমিত রাখার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য হুইলচেয়ার, স্বেচ্ছাসেবক ও পরিবহণ ব্যবস্থাও রাখা হয়।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে মৃত্যুর কোনো খবর নেই। পাশাপাশি ভোট গ্রহণ কেন্দ্র থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া, বুথ জ্যামিং, ভয় দেখিয়ে ভোটদানে বাধা দেওয়ার মত কোনো ঘটনা এবারে ঘটেনি।’ তবে, ইভিএম মেশিনে আঠা ও টেপ লাগানোর সহ ৭৭ টি অভিযোগ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে এসেছে, তার মধ্যে ২৩ টি অভিযোগ ভেরিফাই করা হয়েছে।
ভোট শেষে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান-
দুই দফা মিলিয়ে মোট ভোটদানের হার ৯২.৪৭%—স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ
দ্বিতীয় দফায় ভোট ৯১.৬৬%, প্রথম দফায় ৯৩.১৯%
২০১১ সালের ৮৪.৭২% রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস
মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ (৯২.২৮%) পুরুষদের (৯১.০৭%) থেকে বেশি
প্রতিটি বুথে ১০০% লাইভ ওয়েবকাস্টিংয়ের নজির
