‘কোনও ৭২ ঘন্টার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার যোগ্যতা আমার আছে বলে মনে করি না’,দেবের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্ফোরক প্রসেনজিত
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে মঙ্গলবার ,৭ এপ্রিল আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশনের যৌথ সিদ্ধান্তে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। লক্ষ্য ,রাহুলের মৃত্যুর আসল কারণ এবং শুটিং সেটা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ,ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত,দেব,স্বরূপ বিশ্বাস সহ বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।বৈঠক শেষে দেব মন্তব্য করেন ,”আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে যেসকল পরিচালক ও অভিনেতাকে ব্যান করা হয়েছে তাদের সকলকে কাজে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।”সম্প্রতি,অভিনেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-র একটি চিঠিও শেয়ার করেন।এবার গোটা ঘটনার জেরে মুখ খুললেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার (১২ এপ্রিল) ফের আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে সুরক্ষাবিধি এবং প্রয়াত অভিনেতার মৃত্যু নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সেই আবহেই অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান ,৭ এপ্রিলের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায়ের মৃত্যুর সঠিক বিচার এবং ইন্ডাস্ট্রির শিল্পী-টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বৈঠকে দেব-এর তোলা ‘৭২ ঘন্টার’ চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন ,”সেদিনের মিটিংয়ে প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর বিষয়টা উত্থাপন করা হয়। আমি দাদা হিসেবে বলেছিলাম এখন সকলে রাহুলকে নিয়ে আবেগপ্রবণ ,এই মুহূর্তে কথাটা না বলে কয়েকদিন বাদে বলতে। এছাড়া,কোনও ঘন্টার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতা বা যোগ্যতা আমার আছে বলে আমি মনে করি না। বিষয়গুলি প্রায় দেড় -দুবছর ধরে চলছে।জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।আমাদের ফোরাম ,আমি এবং রঞ্জিতদা তখনও ছিলাম।একটা জেনারেল মিটিং করে কিংবা আলোচনা বা আন্দোলনের মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করা যেত।সোশ্যাল মিডিয়ায় যাঁর উদ্দেশ্যে কিছু পোস্ট করা হচ্ছে আমার মনে হয় তাঁকে একবার জানানো উচিত।এটা ব্যক্তিগতভাবে আমার যথেষ্ট খারাপ লেগেছে।সবচেয়ে বড় কথা এই বিষয়টা ফেডারেশনের কাছে জমা দেওয়া উচিত ছিল। পাবলিক ফোরামে এই ধরনের ৭২ ঘন্টার চ্যালেঞ্জ কতটা যুক্তিসঙ্গত আমি জানি না।”
সব মিলিয়ে,প্রকাশ্যে ‘৭২ ঘন্টার চ্যালেঞ্জ’ ছোড়ার মতো পদক্ষেপ কতটা যুক্তিসঙ্গত -তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রসেনজিৎ।তাঁর মতে ,সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়ার বদলে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের পথ বেশি কার্যকর।
